তোমার আপন পতাকা (হাসান হাফিজুর রহমান)

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - বাংলা - সাহিত্যপাঠ | NCTB BOOK
1.8k
Summary

এই কবিতায় বাংলার গৌরব এবং শোকের এক আধুনিক চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি জাতির দীর্ঘ বেদনা ও সংগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন।

  • বাংলার মাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া হাজার বছরের বেদনা ও সংগ্রামের কথা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের একত্রিত হওয়ার চিত্র।
  • বাংলার পতাকা ও তার জাতীয় গৌরবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
  • শ্রমিকদের মিছিল এবং সংগ্রামের শক্তির পরিচয়।
  • বিদ্রোহের চেতনা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ।
  • শোষণ ও লাঞ্ছনার বিপরীতে বাংলার সৌন্দর্য এবং শক্তির ঐক্যের প্রতীক।

সমগ্র কবিতাটি বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর প্রেম এবং জাতীয়তাবোধের শক্তিশালী অভিব্যক্তি।

এবার মোছাব মুখ তোমার আপন পতাকায় ।

হাজার বছরের বেদনা থেকে জন্ম নিল

রক্তিম সূর্যের অধিকারী যে শ্যামকান্ত ফুল

নিঃশঙ্ক হাওয়ায় আজ ওড়ে, দুঃখভোলানিয়া গান গায় । 

মোছাব তোমার মুখ আজ সেই গাঢ় পতাকায় ।

ক্রুর পদাতিক যত যুগে যুগে

  উদ্ধত পায়ের দাগ রেখে গেছে কোমল পলির ত্বকে

বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে

খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি, 

লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত

 অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি,

বিদীর্ণ বুক নীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি

নত হয়ে গেছে মুখ ক্ষোভে ও লজ্জায় । 

এবার মোছাব সেই মুখ শোকাক্রান্ত, তোমার আপন পতাকায় 

কে আসে সঙ্গে দেখ দেখ চেয়ে আজ :

কারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক,

উত্তাল ঢেউয়ের উদ্যত বৈঠা হাতে মাখা দল 

এবং কামার কুমোর তাঁতি এরাতো সবাই সেই

মেহনতের প্রভু, আনুগত্যে

শানিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে তোমার শিরাময় সারা পথে পথে ।

দুহাতে সরায় দ্রুত শহরের জটিল পঙ্কিল,

মধ্যবিত্ত অনড় আবিল । একে একে সকলকে নামায় মিছিলে ।

ডাকে আপামর ভাই বোন । একসাথে মিলে নিশ্ছিদ্র

বিশাল শিলাদৃঢ় পাহাড় বানায় ।

সেই কোটি হাত এক হাত হয়ে

মোছাবে তোমার মুখ তোমার আপন পতাকায় ।

সমস্ত শূন্যতায় আজ বিশুদ্ধ বাতাস বয়ে যায়

আকাশ চাঁদোয়া জ্বলে রাহুমুক্ত ঘন নীলিমায় ।

 অকলুষ বাংলাভূমি হয়ে ওঠো রাতারাতি আদিগন্ত তীর্থভূমি

অন্তহীন মিছিলের দেশ,

সারি সারি মানুষের আকারে হলে মূর্তিময়ী

সমস্ত স্বদেশ আজ রাঙা রাজপথে । 

দিবালোক হয়ে ফোটে প্রাঞ্জল বিপ্লব

সাত কোটি মুখ হাসে মৃত্যুর রঙিন তীর হাতে নিয়ে ।

শ্রেণিবদ্ধ এই ভিড়ে সকলেই সবার আগে

একবার শত্রুকে শেষ দেখা দেখে নিতে চায় ।

দুঃসাহস চমকায় বরাভয় হিল্লোলিত তোমার আপন পতাকায় ॥

তুমি আছো কাজল দিঘির পাড়ে, কোকিলের মধুক্ষরা স্বরে,

হরিৎস্বপ্নে ফুলে-ওঠা প্রান্তরের উর্বর আদরে

সিংহপ্রাণ গিরিবর্থে এবং বঙ্গোপসাগর

নামক আকুল ঐ অস্থিরতার তুমুল গভীরে

আছো দিন-রাত্রি অগ্নিমুখ অশনির অশেষ অধীরে ।

তুমি আছো আজো, ছিলে চিরকাল ।

বিশ্বের সেরা সুন্দরী বলে লুটেছ প্রবাদের খ্যাতি

যদিও রত্নখচা তোমার সৌন্দর্য সেই অবিরত তোমারই হয়েছে কাল ।

তোমাকে মুঠোতে ভরে আনন্দের ঝুমঝুমি

বাজাতে এসেছে যারা

সুকালের ভোজসভার ক্ষুধার্ত অতিথি 

রক্ত নিয়ে মুখে ধিক্কারে ধিক্কারে পলাতক তারা, 

আবহমান বাংলার বর্বরতম দখলদারও দেখ আজ 

কুৎসিততম আঁধারে নির্ঘাৎ হবে লীন ।

তুমি ছিলে অমলিন, আজো আছ অমলিন ।

শত কোটি লাঞ্ছনার তিক্ত দাগ সারা দেহে সয়ে

আজো তুমি মাতা, শুচিশুদ্ধ মাতা সাত কোটি সংশপ্তক

সন্তানের অকাতর তুমি মাতা ।

প্রেম অবারিত হবে বিজয়ের ধারাজলে, রৌদ্র, জোছনায় ।

শত শতাব্দীর অবগুণ্ঠিত আশা পূর্ণ করে-

জীব মোছাব তোমায় মুখ তোমারই আপন পতাকায় ৷৷

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...